ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চরেরকান্দা নয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৫ই ফেব্রুয়ারি দিন ব্যাপী চরেরকান্দা নয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টায় জাতীয় সংগীত ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। দিনব্যাপী এ খেলার বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে ছিল দৌড়, উচ্চ লাফ, দীর্ঘ লাফ, বল নিক্ষেপ, ভারসাম্য দৌড়, চকলেট দৌড়, অংক দৌড় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল কবিতা আবৃত্তি, হাতের লেখা, দেশাত্মবোধক গান, যেমন খুশি তেমন সাজো ইত্যাদি।
সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, কালিকা প্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মোঃ লিটন মিয়া, উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ কবির হোসেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকগণ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ ও অভিভাবকবৃন্দ।
উক্ত অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন জনাব মোঃ আজিজুল হক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। বিভিন্ন ইভেন্টের খেলা পরিচালনায় ছিলেন জনাব মোঃ বদিউল আলম, রিয়াজ আহমেদ রাজন ও এম এইচ আরমান।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হোসাইন আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মধ্যে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন।
ভৈরব উপজেলার কালিকা প্রসাদ ইউনিয়ন এর দক্ষিণ পাড়া গ্রামের স্বনামধন্য একটি বাড়ি মৃধা বাড়ি। এটি কালিকা প্রসাদ এর ঐতিহাসিক কবরস্থান ও ব্রম্মপুত্র নদীর পাশের অবস্থিত।
মৃধা বাড়ির বংশ পরম্পরায় উন্নয়নের লক্ষে এবং সকলকে একত্রে রাখার লক্ষে “মৃধা বাড়ি ঐক্য পরিষদ” গঠন করা হয় গত ০৫/০৫/২৩ইং তারিখ এবং সাথে সাথে ই বাড়ির ১২ জন প্রবীন কে উপদেষ্টা গঠন করে নবীনদের নিয়ে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
প্রথম বারের মতো ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন অগ্রগতি ছাত্র সংগঠন। গতকাল অগ্রগতি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে কালিকা প্রসাদে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংঘটনের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক সহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।
গত ১৫ই মার্চ কালিকা প্রসাদে ছাত্রদের উন্নয়নমূলক অগ্রগতিকে সদুর প্রসারী করতে অগ্রগতি ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত সংঘটনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান কালিকা প্রসাদের মেধাবী ছাত্র সামিউল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান মারুফ মিয়া।
গতকাল তাদের এই সংঘটনের পক্ষ থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরন করা হয়। সংঘটনের সভাপতি সামিউল ইসলাম বলেন, কালিকা প্রসাদের ছাত্রদের কারিগরি মেধা বিকাশের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব। তাছাড়া গরীব, অসহায় ছাত্রদের পড়াশোনা যেন আর্তিক সমস্যার কারনে বন্ধ না হয় সেই বিষয়ে আমরা দৃষ্টি রাখব। সামাজিক উন্নয়নে, অসহায় মানুষদেরকেও সাহায্য সহযোগিতা করবে আমাদের এই অগ্রগতি ছাত্র সংঘটন।
অদম্য মনোবল আর কঠোর পরিশ্রমে মাসুম জীবনের লক্ষ্যবস্তু ভেদ করলেও দারিদ্র্যতার কষাঘাতে থমকে গেছে মাসুমের পড়াশোনা। ছোটবেলা থেকে পরিবার ছিল দারিদ্রতার ঘোর আঁধার, এ যেন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর গল্পের মতো তবুও ছোটবেলা থেকেই দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের ব্রত হয়ে মাসুম স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অনিশ্চয়তার ঘোর কালো অমাবস্যা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের মহাজানপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মোতাহার হোসেনের ছেলে মাসুম রাব্বী। দুই ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছোট। স্থানীয় সরকারটলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শেষ করে ভেলাজান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন মাসুম। অভাব ও নানা সমস্যা নিয়ে এতদূর পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে গেলেও এবার থমকে গেছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন। তবুও স্বপ্ন বুনছেন সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে দক্ষ প্রকৌশলী হয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু করবেন।
মাসুমের মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। বড় মেয়েকে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিয়েছি। আমাদের নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি নেই। যে বাড়িতে আছি সেটিও অন্যের। মাসুমের বাবা যা রোজগার করে তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি। আমি সেলাই মেশিনের কাজ করি। এখন অসুস্থতার কারণে সে কাজটিও আর করতে পারি না। আমার মাসুম কষ্ট করে এতদূর এসেছে। খেয়ে না খেয়ে তার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। সেটি আর সাধ্যে কুলাচ্ছে না। সবার সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব না।
মাসুমের বাবা ভ্যানচালক মোতাহার হোসেন বলেন, আমার মায়ের সঙ্গে বাবার ডিভোর্স হওয়ার পর বাবা আমাকে এখানে নিয়ে আসেন। এখানে আসার পর অন্যের জায়গায় বাড়ি করে ছিলাম। এখনো অন্যের জমিতেই থাকি। ছোটবেলা থেকে অন্যের বাড়িতে কাজ করে চলতাম। বিয়ের পরও দিনমজুরি আর ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। তারপরও আমার ছেলে কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন তার ভর্তির খরচ, যাতায়াতসহ সেখানে কয়েকমাস থাকার খরচ দেওয়ার মতো আমার সামর্থ্য নেই। যদি সমাজের কেউ সহযোগিতা করেন তাহলে আমার ছেলে একদিন বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। আপনাদের সকলকে আমার ছেলের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।
অদম্য স্বপ্ন নিয়ে মাসুম রাব্বী বলেন, আমার বাবা-মা অনেক কষ্ট করেন। আমার বাবা ভ্যান চালায়। মা সেলাই মেশিন চালিয়ে যা আয় করেন তা আমার পড়াশোনার জন্য দেন। আমি ভালো কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে পারিনি। নিজে টিউশনি করিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ কোনোভাবে চালিয়ে নিতাম। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু টাকার কারণে ভর্তি হতে পারছি না। এতো টাকা দিয়ে ভর্তি করানোর সক্ষমতা আমার পরিবারের নেই। এমন কিছুও নেই যা বিক্রি করে ভর্তি হব। এর আগেও আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারিনি। আমার ভর্তিসহ আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে আমাকে কেউ সহযোগিতা করলে আমি ভালো কিছু করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমি চাই না এ পর্যায়ে এসে আমার পড়াশোনা কোনোভাবে থেমে যাক। আপনাদের সহযোগিতা আমাকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রবিউল আলম বলেন, মাসুম অনেক মেধাবী ছাত্র। সে ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে। তাকে আমরা বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করেছি। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমরা চাই তার পড়াশোনা যেন থেমে না যায়। আশা করি সরকার ও বিত্তবানসহ সকলে তার পাশে থেকে তাকে সহযোগিতা করবেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান বলেন, আশা করি আর্থিক সমস্যার কারণে মাসুমের পড়াশোনা থেমে থাকবে না। সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে।
আকরাম আলী। বয়স প্রায় ৫০ বছর। এক সময় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। ডিসকভারি চ্যানেলে বিদেশিদের নানা প্রজাতির পোকামাকড় খাওয়া দেখে অনুপ্রাণিত হন। নিজেও পোকামাকড় খেতে শুরু করেন। কাঠমিস্ত্রির কাজ ছেড়ে এখন পোকামাকড় খাওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছেন তিনি। এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন ডিসকভারি আকরাম নামে। তার এমন কাণ্ড দেখতে ভিড় করছে উৎসুক জনতা।
আকরাম আলী পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ঘোড়াদহ গ্রামের মৃত জব্বার প্রামানিকের ছেলে। তিনি চার কন্যা সন্তানের জনক। কর্মজীবনের শুরু কাঠমিস্ত্রি হিসেবে হলেও মাঝে তিনি এন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০২ সালে ঢাকার সাভারে থাকার সময় আকরাম একটি সাদাকালো টেলিভিশন কিনে ডিসকাভারি চ্যানেল দেখা শুরু করেন। নিয়মিত দেখতে থাকেন বিদেশিদের পোকামাকড় খাওয়ার দৃশ্য। সেই থেকে তিনি মনে মনে চিন্তা করেন বিষয়টি নিয়ে। তিনি ভাবতে থাকেন বিদেশিরা এসব পোকামাকড় বা জীবন্ত কিছু খেতে পারলে আমি কেন পারব না? সেই থেকে মূলত তিনি এসব খাওয়া শুরু করেন। শুরুটা হয় জ্যান্ত কাঁকড়া খাওয়া দিয়ে। পর্যায়ক্রমে তিনি কেঁচো, কাঠের পোকা, সাপ, কুচিয়া, তেলাপোকা,ইঁদুর, বিভিন্ন প্রজাতির কাঁচা মাছ, গবরের পোকাসহ নানা পোকামাকড় খান। বর্তমানে সব কাজ ছেড়ে তিনি পোকামাকড় খাওয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বিভিন্ন ডাক্তার ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পরামর্শ চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে তার এই কাজগুলো দেখে আসছি। প্রথমে বিষয়টি সামাজিকভাবে খারাপ দেখালেও এখন তিনি আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি ২০-২২ বছর ধরে বিভিন্ন পোকামাকড় ও কাঁচা মাংস খেয়ে আসছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন, আলমগীর হোসেন, আব্দুল বারী ও জাকারিয়া হোসেন বলেন, ডিসকভারি আকরামকে জীবন্ত সাপ, কুচিয়া, ব্যাঙ, ইঁদুর খেতে দেখেছি। বিষয়টি দেখে খুবই অবাক লাগছে। ডিসকভারি চ্যানেলে যখন এসব খাওয়ার দৃশ্য দেখতাম তখন ভাবতাম এগুলো কেমন করে খায়। বিশ্বাসই করতাম না। আমরা এগুলো ভুয়া মনে করেছি। কিন্তু আজ এগুলো দেখে সব বিশ্বাস হয়ে গেল।
আকরাম আলীর স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন বলেন, শুরুতে যখন সে এসব কাজকর্ম করত, একটু বিরক্তবোধ করতাম। বারবার তাকে নিষেধও করেছিলাম। কিন্তু যখন দেখি সে এসব খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে এবং এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাড়া ফেলেছে, তখন খুব ভালো লাগে। বর্তমানে অভাবের সংসারে সে বিভিন্ন কাজকর্মের পাশাপাশি বিল-নদী ও মানুষের বাড়ির আঙিনা থেকে সাপ, বিচ্ছু, কাঁকড়া, ইঁদুর, তেলাপোকা, ব্যাঙ, কুচিয়া, কাঁচা মাছ মাংস সংগ্রহ করে খেতে পারে। বিষয়টি এখন আমরা পারিবারিকভাবে পজিটিভভাবে দেখছি। আমার স্বামী বড় হোক, তাকে বিশ্বের সবাই চিনুক। সেজন্য সরকারি সহযোগিতা দরকার।
ডিসকভারি আকরাম আলী বলেন, আমি একজন দরিদ্র মানুষ। খুব কষ্টে সংসার চলে। দুটো কন্যার বিয়ে দিয়েছি। আরও দুই কন্যা রয়েছে। তারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে পড়ালেখা করে। নিজের সামর্থ্য নেই একটি স্মার্ট বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার। সরকারি-বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এবং সঠিক গাইড লাইন পেলে দেশ থেকে বিদেশে আমার কাজ দিয়ে আলোড়ন তুলতে চাই।
তিনি বলেন, ২০০২ সালে সাদাকালো টেলিভিশনে ডিসকভারি চ্যানেলে তাজা পোকামাকড় খাওয়া দেখি। সেই থেকে আমিও চিন্তা করি এমন কিছু করব। একদিন পুকুরে স্থানীয়দের মাছ ধরতে দেখে সেখান থেকে একটি কাঁকড়া ধরি এবং খেয়ে ফেলি। এরপর পুকুরে মাছ ধরার সময় আমি বিভিন্ন মাছ খাওয়ার অভ্যাস করি। কিছু দিন পর ঢাকা একটি স-মিলে কাজে যাই। সেখানকার কাঠগুলো উল্টে দেখি কিছু পোকামাকড়। যেটাকে টাটা পোকা বলি আমরা। এরপর একটি পোকা হাত দিয়ে ধরলাম, দেখি খবই নরম। পরে ছেড়ে দিলাম যে, আজকে থাক পরে দেখা যাবে। এর কয়েক দিন পর সেখান থেকে পোকা ধরে কামড় দিলাম। খেতে খুব ভালোই লাগল। কোনো সমস্যা হলো না। বমিও আসেনি। পেটেও কোনো সমস্যা হয়নি। এরপর একদিন কুচিয়া খেলাম। এভাবে ব্যাঙ, তেলাপোকা, ইঁদুর, কেঁচো খাওয়া শুরু করলাম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্কয়ারসহ বেশ কিছু হাসপাতাল ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেলে কেউই পরামর্শ দেয় না। সব জায়গায় গিয়ে পরামর্শ চেয়ে ব্যর্থ হলেও নিজের মতো করে এগুলো খাওয়া অব্যাহত রেখেছি।
আকরাম আলী বলেন, এলাকার মানুষের থেকে আমি ব্যাপক সহযোগিতা পেয়ে থাকি। এলাকার বাজারে গেলে স্থানীয়রা তাজা মাছ খেতে বলেন। আমি তাদের কথা মতো মাছ খাই। সরকারি-বেসরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতা বা পৃষ্ঠপোষকতা পাই, তাহলে আমি বিদেশি চ্যানেল ডিসকভারির মতো ভিডিও তৈরি করতে পারব।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ খান “আমাদের ভৈরবের খরব”কে বলেন, আমাদের এলাকার কাঠমিস্ত্রি আকরাম এখন ডিসকভারি আকরাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ তিনি জীবন্ত সাপ, ব্যাঙ, বিচ্ছু, ইঁদুর, কাঁচা মাছসহ বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে থাকে। প্রথমে লোকজন বিভিন্ন কথা বললেও এখন সবাই তাকে সাপোর্ট করে। আমি নিজেও তার এসব কাজকর্ম দেখেছি। খুবই অবাক লাগে বিষয়টি। সরকারের প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সালেহ মোহাম্মদ আলী “আমাদের ভৈরবের খরব”কে বলেন, বিষয়টি আমি এই প্রথম শুনলাম। আফ্রিকার জঙ্গল ও অ্যামাজনের জঙ্গলে আদিবাসী যারা বাস করেন, তারা এগুলো খেয়ে জীবন বাঁচান। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা প্রথম শুনলাম। তিনি খেয়ে যদি হজম করে ফেলতে পারেন, তাহলে তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের দেশের স্বাস্থ্য বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার।
এই গল্পটি আজ থেকে অনেক দিন আগের। কোনো এক গ্রামে একজন কৃষক বাস করত। বুঝতেই পাড়ছেন কৃষকের অবস্থা কেমন হতে পাড়ে! সেই কৃষক স্থানীয় এক জমিদারের কাছে অনেক টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কৃষক পরিবার এমনিতেই দিন আনতে পান্তা ফুরোয়, ঋণ পরিশোধ করা তো দূরের কথা। কৃষকের একমাত্র সম্পদ বলতে যা ছিল তা হল তার চাঁদের মত উজ্জ্বল সুন্দর দেখতে একটি মেয়ে আর তার দুই বিঘা জমি।
ঋণ শোধ করতে না পারায় এর পরিবর্তে সেই জমিদার কৃষকের মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। যে জমিদারের মাথার চুল একদম সাদা হয়ে গিয়েছে আর কয়েক বছর পড় ইহলোক ছেড়ে পরলোকে গমন করবেন, তার আবার শক অনেক, ভাবা যায়! কেবলমাত্র বৃদ্ধই নয়, সেই জমিদার দেখতেও অনেক খারাপ আর বদমেজাজী ছিলেন।
বুড়ো জমিদার কৃষকের সুন্দর মেয়ের স্বপ্নে বিভোর হতে থাকে, একদিন আর থাকতে না পেরে তিনি গেলেন কৃষকের বাড়ি, সরাসরি কৃষককে তার মেয়ের সামনেই বললেন- “তোমার অনেক ঋণ পড়ে আছে, আমি জানি তুমি পরিশোধ করতে পাড়বে না, এক কাজ করো তোমার রূপবতীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়ে দাও এর পরিবর্তে তোমার সব ঋণ মুকুব করে দিব।“ এই কথাটি শোনা মাত্রই কৃষক ও তার মেয়ে অবাক হওয়ার দৃষ্টিভঙ্গিতে জমিদারের দিকে তাকিয়ে থাকে।
বাংলা শিক্ষণীয় ছোট গল্প MOTIVATIONAL STORY
এরপর জমিদার বলে- “ আচ্ছা তাহলে এক কাজ কর, চল তোমরা আমার সাথে পঞ্চায়েতের কাছে। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তিনিই নেবেন, আর তা আমাদের মানতে হবে।“ বাধ্য হয়ে কৃষক ও তার মেয়ে পঞ্চায়েতের কাছে গেলেন। আগাগোড়া সব কথা শোনার পড় পঞ্চায়েতও চিন্তায় পড়ে গেলেন।
এরপর পঞ্চায়েত বললেন- “আপনাদের সমস্যাটি আমাকে বড়ই চিন্তিত করছে, আচ্ছা আমি এই বিচারটি ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলাম। তোমাদের সামনে যে কালো আর রঙ্গিন বল গুলি দেখা যাচ্ছে, সেখান থেকে জমিদার একটি কালো আর একটি রঙ্গিন বল নিয়ে আমার কাছের এই ব্যাগে রাখবে, আর কৃষকের কন্যাকে না দেখে এই ব্যাগ থেকে যেকোনো একটি বল উঠিয়ে নিতে হবে। যদি সে কালো বল উঠায় তাহলে তাকে জমিদারকে বিয়ে করতে হবে আর পরিবর্তে জমিদার কৃষকের সব ঋণ মুকুব করে দিবেন।
আর সে যদি রঙ্গিন বল উঠায় তাহলে জমিদারকে বিবাহ করতে হবে না, এবং জমিদারের অবিবেচনা প্রসুত চিন্তা-ভাবনার জন্য জমিদারকে কৃষকের ঋণ মুকুব করে দিতে হবে। আর কৃষকের কন্যা যদি কোনো বল না উঠায় তাহলে তার পিতাকে আজীবনের জন্য জেলে বন্দী করা হবে।
জমিদার রাজী হয়ে যায় এবং তাদের সামনে পড়ে থাকা বল গুলি থেকে পঞ্চায়েতের অগোচরে দুটি কালো বল উঠিয়ে থলির মধ্যে রেখে দেয়, সে ভেবেছিল দুটি বলই যদি কালো দেওয়া হয় তাহলে কৃষকের মেয়েকে বিবাহ করার ব্যাপারে সে নিশ্চিন্ত। কিন্তু তার এই চালাকি কৃষকের মেয়ে দেখে নেয়, সে ভাবতে থাকে কিভাবে এর সমাধান করা যায়।
এরপর সে উপস্থিত সবাইকে জমিদারের চালাকি বলে দিতে চাইল, কিন্তু সে আবার ভাবল সে যদি এটি বলে দেয় তাহলে, পড়ে আবার ব্যাগে বল রাখা হবে আর তখন রঙ্গিন এবং কালো দুটি বলই থাকবে, কিন্তু এখন দুটি বলই কালো তাহলে এর থেকে আরামেই বাঁচা যেতে পাড়ে।
এরপর পঞ্চায়েতের নির্দেশে সে ব্যাগটিতে হাত দিল এবং একটি বল হাঁতে নিয়ে কায়দা করে ইচ্ছে করেই নীচে থাকা বল গুলির উপর সেই বলটি সে ফেলে দিল। এরপর সে বলল- “ হে ভগবান, বল টিতো পড়ে গিয়ে বাকি বলগুলোর সাথে মিশে গেল, এবার কি হবে?”
পঞ্চায়েত বললেন- “যে বলটি নীচে পড়ে গেছে সেটিই তুমি তুলেছ, তাহলে দেখ ব্যাগে কি রঙের বল আছে, যে রঙের বলটি নেই সেটিই তুমি তুলেছ। এরপর সবাই দেখল যে ব্যাগে কালো রঙের বলটি পড়ে আছে। তাই সবাই ধরে নিল যে, কৃষকের কন্যা রঙ্গিন বলটি তুলেছে। তাই শর্ত সাপেক্ষে জমিদার কৃষকের সব ঋণ মুকুব করে দিতে বাধ্য হল এবং কৃষকের কন্যাও বেঁচে গেল।
এদিকে জমিদারের চালাকি তারই পায়ে কুড়ুল মেরে চলে গেল।
এই গল্পটি থেকে যা কিছু শেখা যায়- সবসময় চতুরের চালাকি ধরিয়ে দিতে নেই, সব বুঝেও ঠাণ্ডা মাথায় কাজ হাসিল করে নিতে হয়। বেশি চলাকি করতে গেলে অবশেষে নিরাশ হতেই হবে।
জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদ সফলতার সহিত সম্পাদন করায় উপজেলা পর্যায়ে ১ম স্থান অর্জন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার কালিকা প্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদ। শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন পরিষদের জননন্দিত চেয়ারম্যান বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনাব মোঃ লিটন মিয়া।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবদের উপস্থিতিতে এক সভায় কালিকা প্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ লিটন মিয়া ও সচিব এমদাদুল ইসলামের হাতে পুরস্কার ও ক্রেষ্ট তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাদিকুর রহমান সবুজ ।
”আমার দক্ষতায়, আমার ক্যারিয়ার” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশে এই প্রথম ৬৪ টি জেলার ৪৯৫ টি উপজেলায় হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াড। বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াড এর প্রতিষ্ঠাতা ও ৩৫ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার জনাব গাজী মিজানুর রহমান স্যার এবং বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াড এর পরিচালক, ৩৬ তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার জনাব শাকিল আল-আমিন স্যার এর নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
এতে প্রতিটা উপজেলায় কমিটি গঠন করা হয়েছে।সেক্ষেত্রে ভৈরব উপজেলা কো-অর্ডিনেটর তুলি বৃষ্টি ও সহকারী কো-অর্ডিনেটর আনিসা তাফসিন হৃদয় এর নেতৃত্বে ভৈরব উপজেলায় টিম গঠন করা হয়েছে।
“বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াড” এ অংশগ্রহন করে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা প্রকাশ করতে পারবে।
তিনটি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ক্যারিয়ার অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণ করবে স্কুল পর্যায়ে ৯ম-১০ম শ্রেনি, কলেজ, মাদ্রাসা ও ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা প্রকাশ করার পাশাপাশি পাবে বিভিন্ন ধরনের পুরষ্কার ও বিভিন্ন কোম্পানি তে চাকরির সুযোগ।