টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে বিশেষ পুরষ্কার পেল কালিকা প্রসাদ তাত্তাপাড়ার কিশোর-রা

আকরাম হোসেন, কালিকা প্রসাদ প্রতিনিধি

শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন তাত্তাপাড়া বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম সাহেব। সেই ঘোষণায় আকৃষ্ট হয়ে টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছে ঐ গ্রামের অনেক কিশোর।

তরুণ আলেম সাজ্জাদ হোসেনের উদ্যোগে তাত্তাপাড়া বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদে শুক্রবার এমনই আয়োজন হল।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে ইমাম সাহেব সাজ্জাদ হোসেন মসজিদে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ১০বছরের কম বয়সের কিশোররা যদি একটানা ৪০ দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে, তাহলে তাদেরকে আকর্ষণীয় পুরষ্কার দেয়া হবে।

সে ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে এলাকার অনেক কিশোরই নামাজ আদায় করতে শুরু করে। টানা ৪০ দিন নিয়মিত জামাতে নামাজ পড়েছেন, এমন ২৬ জনের হাতে শুক্রবার সেই পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

শিশু-কিশোরদেরকে নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করে মসজিদমুখি করার লক্ষ্যে আয়োজিত এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। ইমাম সাহেব হাফেজ সাজ্জাদ হোসেনের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।

বিষয়টি সম্পর্কে ইমাম সাহেব বলেন, ঘোষণার পর থেকে প্রায় এক শতাধিক কিশোর মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা শুরু করে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসার রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর হাজিরা নেয়া হতো। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকতো তখন তার গণনা বন্ধ করে দেয়া হতো। তবে সে চাইলে তার নাম আবার লিখিয়ে নতুন করে নামাজের দিন গণনা শুরু করতে পারত। এভাবে নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ২৬ জন বিজয়ী হয়।

ইমাম সাহেব বলেন, প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে তাদের শুধু নামাজই পড়ানো হয়নি। বরং সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরি মাসয়ালাও শেখানো হয়, সেই সঙ্গে তালিম-তরবিয়ত এবং নামাজের প্রতি মানুষকে আহবানের পাশাপাশি দ্বীনি ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়েছে।

ইমামের এমন কার্যক্রমে এলাকার শিশু-কিশোররা নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এসময় উপস্থিত ছিলেন এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সবাই মিলে কিশোর কিশোরীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

শেয়ার করে দিন………………

সুখী পরিবার গঠনে নবীজির নির্দেশনা

সুখময় সংসারকে জান্নাতের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। অশান্ত ও কলহ-বিবাদে জড়ানো পরিবারের তুলনা শুধু জাহান্নামের সঙ্গে চলে।

পারিবারিক জীবনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ পেতে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসার পাশাপাশি প্রিয় নবী (সা.)-এর নির্দেশিত পথ ও পদ্ধতি অবলম্বনের কোনো বিকল্প নেই। সংসারের সুখের জন্য স্বামী-স্ত্রী দু’জনের পালনীয় অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে এ আয়োজন।

স্বামীর দায়িত্ব

দ্বীনদার স্ত্রী গ্রহণ করা

রাসূল (সা.) বলেন- যে বিবাহ করার ইচ্ছা করে, সে যেন দ্বীনকে প্রাধান্য দেয়। অন্য হাদিসে এসেছে, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদের বিয়ে করা হয়- সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। সুতরাং তুমি দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে (সহিহ বুখারি)।

মনের ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করা

হজরত খাদিজা (রা.) সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘আমার মনে তার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে’ (মুসলিম)। হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘সবার চেয়ে আয়েশা আমার কাছে এমন প্রিয়, যেমন সব খাবারের মধ্যে সারিদ (আরবের বিশেষ এক ধরনের খাদ্য) আমার কাছে বেশি প্রিয়’ (সহিহ বুখারি)। তাই স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার কথা মুখে প্রকাশ করুন।

নিজেকে পরিপাটি রাখা

পুরুষরা তাদের সঙ্গিনীকে সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। ঠিক একইভাবে তারা তাদের সঙ্গীকেও সুন্দরভাবে দেখতে পছন্দ করে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনই পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদের ক্ষেত্রে সাজগোজ করে থাকতে পছন্দ করি’ (বাইহাকি, হাদিস : ১৪৭২৮)।

স্ত্রীর প্রতি সব সময় আন্তরিক থাকা

স্ত্রীর সঙ্গে সব সময় আন্তরিক আচরণ করতে হবে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন (ইবনে মাজাহ)। তিনি আরও বলেন, পাত্রের যে অংশে আমি মুখ রেখে পানি পান করতাম তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করতেন (মুসলিম)।

স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা

স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা পারিবারিক সুখের অন্যতম চাবিকাঠি। তার পাওনাগুলো পরিপূর্ণভাবে আদায় করতে হবে। তার অধিকার বুঝিয়ে দিতে হবে। তার নিত্যদিনের শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পুরা করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন- তোমাদের মধ্যে সেই ভালো যে তার পরিবারের কাছে ভালো। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের চেয়ে উত্তম (আত-তিরমিজি)।

স্ত্রীর মনোরঞ্জন

পারিবারিক শান্তির জন্য স্ত্রীর মনোরঞ্জন অপরিহার্য। রাসূল (সা.) আপন স্ত্রীদের সঙ্গে বিনোদনমূলক আচরণ করেছেন। আয়শা (রা.) এক সফরে নবী (সা.)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, আমি তার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করে তার আগে চলে গেলাম। অতঃপর আমি মোটা হয়ে যাওয়ার পর (অন্য আরেক সফরে) তার সঙ্গে আবারও দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম, এবার তিনি (রাসূল সা.) আমাকে পেছনে ফেলে দিয়ে বিজয়ী হলেন। তিনি বলেন, এ বিজয় সেই বিজয়ের বদলা (আবু দাউদ)।

একে অপরের কাজে সহযোগিতা

নবীজি (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, নবীজি কি পরিবারের লোকদের তাদের ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, নবীজি ঘরের লোকদের তাদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য যেতেন (সহিহ বুখারি)। সুখী জীবনের জন্য সুযোগ পেলেই পারিবারিক কাজে সহায়তা করতে হবে।

পরিবারের সঙ্গে অধিক সময় কাটানো

হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে দু-জাহানের মুক্তির পথ কী, তা জানতে চাইলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনটি উপদেশ দিলেন। ১. কথাবার্তায় আত্মসংযমী হবে। ২. পরিবারের সঙ্গে তোমার অবস্থানকে দীর্ঘ করবে। ৩. নিজের ভুল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবে (তিরমিজি)।

সঙ্গিনীর সঙ্গে পরামর্শ করা

জীবনের যে কোনো বিষয়ে জীবন সঙ্গিনীর মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে। নবীজি শুধু ঘরোয়া বিষয়ই নয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মতামত নিতেন। ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামক ইসলামি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নবীজি তার স্ত্রী উম্মে সালমা (রা.)-এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় যা অতি কার্যকরী বলে বিবেচিত হয় (বুখারি)।

আল্লাহর কাছে দোয়া

পরিবারে সুখ-শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। কীভাবে দোয়া করতে হবে আল্লাহ আমাদের তা শিখিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করো এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শস্বরূপ করো (আল কুরআন ২৫/৭)।

স্ত্রীর দায়িত্ব

স্বামীর প্রতি সম্মান দেখানো

স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর কর্তব্য। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যদি আমি কোনো মানুষকে অপর কারও জন্য সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তবে নারীকে তার স্বামীকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতাম’ [তিরমিজি]।

স্বামীর আদেশ পালন করা

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘স্বামী যখন তার প্রয়োজনে স্ত্রীকে ডাকে, সে যেন অবশ্যই তার কাছে আগমন করে, যদিও সে চুলার ওপর ব্যস্ত থাকুক। (অর্থাৎ যদিও সে রান্নাবান্নার কাজে ব্যস্ত থাকুক)’ (তিরমিজি)। অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে তার শয্যায় ডাকে (পারস্পরিক মিলনের উদ্দেশ্যে)। এরপর স্ত্রী যদি স্বামীর আহ্বানে সাড়া না দেয়, আর স্বামী যদি (তার এ আচরণে কষ্ট পেয়ে) তার প্রতি নারাজ অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে, এমতাবস্থায় জান্নাতের বাসিন্দারা তাকে সকাল হওয়া পর্যন্ত লানত দিতে থাকে’ (বুখারি)। এ দুটি হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, স্বামীর আদেশ পালন করা স্ত্রীর জন্য অপরিহার্য।

স্বামীকে কষ্ট না দেওয়া

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে নারী তার স্বামীকে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে দুনিয়াতে কষ্ট দেয়, তার সম্পর্কে জান্নাতের হুর-গেলমানরা লানত দিয়ে বলে, হে হতভাগা! তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহতায়ালা তোমাকে নিশ্চিহ্ন করুন!’(তিরমিজি)।

স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জন

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো স্ত্রীলোক এমতাবস্থায় মারা যায় যে, তার স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট ছিল, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (তিরমিজি)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, স্বামীর সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়।

স্বামীর জন্য সাজগোজ

একবার নবীজি (সা.) সফর থেকে ফিরে মদিনায় আসার পর বাড়িতে না গিয়ে সাহাবিদের বললেন, তোমরা এখানে থেমে যাও এবং বাড়িতে খবর পাঠাও যেনো তোমাদের স্ত্রীরা নিজেদের তোমাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখতে পারে। রাসূল (সা.)-এর স্ত্রীরা নিজেকে রাসূল (সা.)-এর সামনে সাজগোজ করে উপস্থাপন করতেন (বুখারি)।

স্বামীর দোষ গোপন রাখা

নারীদের মধ্যে এ প্রবণতা খুব বেশি লক্ষ করা যায়- তারা স্বামীর দোষ অন্যের কাছে শেয়ার করে মন হালকা করতে চায়! এটা ইসলামি শরিয়তে হারাম ও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এতে করে সংসারে কলহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয় এবং সুখ-শান্তি চলে যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা অগ্র-পশ্চাতে দোষ বলে বেড়ায়’ (সূরা হুমাজাহ-১)।

স্বামীর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার প্রতি খুব বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না’-(বুখারি ও মুসলিম)। সুখী পারিবারিক জীবনের জন্য স্বামীর আত্মীয়দের প্রতি স্ত্রীর এবং স্ত্রীর আত্মীয়দের প্রতি স্বামীর সুসম্পর্ক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিপদের সময় স্বামীর পাশে দাঁড়ানো

বিপদ আপদ ও পেরেশানির সময় স্বামীকে সান্ত্বনা দেওয়া সুন্নত। যেমন রাসূল (সা.) ওহি লাভের পর অজানা শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে গৃহে ফিরে এলে হজরত খাদিজা (রা.) তাকে সান্ত্বনা দেন, ‘কখনো না (শঙ্কার কোনো কারণ নেই)। নিশ্চয় আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন। অন্যের বোঝা বহন করেন। মেহমানের আপ্যায়ন করেন। (আপনার কিছু হবে না)। (বুখারি)।

স্বামীর কৃতজ্ঞতা স্বীকার

রাসূলুল্লাহ (সা.) মেরাজ থেকে ফিরে এসে বলেন, ‘আমি জাহান্নাম কয়েকবার দেখেছি, কিন্তু আজকের মতো ভয়ানক দৃশ্য আর কোনো দিন দেখিনি। তার মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি দেখেছি। তারা বলল, আল্লাহর রাসূল কেন? তিনি বললেন, তাদের অকৃতজ্ঞতার কারণে। জিজ্ঞেস করা হলো, তারা কি আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা করে? বললেন, না, তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করে, তার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে না। তুমি যদি তাদের কারও ওপর যুগ-যুগ ধরে অনুগ্রহ কর, এরপর কোনো দিন তোমার কাছে তার বাসনা পূর্ণ না হলে সে বলবে, আজ পর্যন্ত তোমার কাছে কোনো কল্যাণই পেলাম না’ (মুসলিম)।

অযথা সন্দেহ পরিহার

আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় কোনো কোনো অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না (সূরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)। যে পরিবারে সন্দেহের রোগ বাসা বাঁধে সেখানে সুখের আশা করা বৃথা। যে কোনো বিষয়ে পরস্পরে বোঝাপড়া ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

সূত্র: যুগান্তর

বিয়ের আগে জীবন সঙ্গীনি

আফফান ওয়াবাইদুল,

বিয়ের আগে জীবনসঙ্গীনী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত:

নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। খুনসুটি রসিকতা পছন্দ করে। নখরা-ন্যাকা তাদের স্বভাবগত। তারা ভালবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে খুবই পছন্দ করে। তুমি একান্তে স্ত্রীর কাছে এসব কথা প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবেনা। তাকে বেশি বেশি ভালোবাসার কথা বলবে। যদি এসবে কার্পণ্য কর, তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর দিনদিন পরস্পরের সম্পর্কে শুষ্কতা আসতে শুরু করবে। ভালবাসা জানলা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজবে।

নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ় বদমেজাজি-রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা। তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে ফেল। কারণ তারা সুশীল,ভদ্র,উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য,তাকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো অর্জন কর।

এটা খুব ভালো করে মনে রাখবে, তুমি তোমার স্ত্রীকে যেমন পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, পরিপাটি, গোছালো, সুরুচিপূর্ণ, সুগন্ধিময় দেখতে চাও, তোমার স্ত্রীও কিন্তু তোমাকে ঠিক তেমনটাই চায়। তাই সাবধান থাকবে,তার চাহিদা পূরণে যেন কোন অবস্থাতেই তোমার পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র অবহেলা না হয় ।

ঘর হল নারীদের রাজ্য। একজন নারী নিজেকে সবসময় সেই রাজ্যের সিংহাসনে আসীন দেখতে খুবই পছন্দ করে। সে কল্পনায়,স্বপ্নে, বাস্তবে এই রাজ্য নিয়ে ভাবে। সাজায়,রচনা করে। খুবই সাবধান থাকবে। কখনোই তোমার স্ত্রীর এই সুখময় রাজত্বকে ভেংগে দিতে যেও না। এমনকি তাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেয়ার প্রয়াশও চালাবেনা। তুমি তো জানোই,আল্লাহ্ তা’আলার কাছে সবচেয়ে অপছন্দজনক বিষয় কী?

  • তাঁর সাথে কোনকিছু শরীক করা।
  • হ্যাঁ, ঠিক বলেছো। একজন রাজার কাছেও সবচেয়ে ঘূণিত বিষয় কী?
  • তার রাজ্যে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করা।

নারীরা তার স্বামীকে মনে প্রাণে,সর্বান্তঃকরণে প্রবলভবে স্বামীকে পেতে চায়। তবে পাশাপাশি বাপের বাড়িকেও হারাতে চায় না। হুঁশিয়ার থেকো বাবা! তুমি ভুলেও নিজেকে আর স্ত্রীর পরিবারকে এক পাল্লায় তুলে মাপতে শুরু করে দিওনা। তুমি এ অন্যায় দাবী করে বসো না ‘হয় আমাকে বেছে নাও,নাহলে তোমার বাবা-মাকে। তুমি এই বিষয়টা চিন্তাতেও স্থান দিও না। তুমি তাকে এমনটা করতে বাধ্য করলে সে হয়তো চাপে পড়ে মেনে নিবে। কিন্তু তার মনের গহীনে কোথাও একটা চাপা বোবা কান্না গুমরে মরতে থাকবে। তোমার প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অশ্রদ্ধা তার কোমল মনে জেগে উঠবে।

তুমি জানো, অনেক শুনেছো এবং পড়েছো নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাহু (বা পাজরের) বাঁকা হাড় থেকে। এই বক্রতা কিন্তু তার দোষ নয়, সৌন্দর্য। তুমি চোখের ভ্রু লক্ষ করে দেখেছ? সেটার সৌন্দর্যটা কোথায়?

  • বক্রতায়
  • একদম ঠিক কথা। বক্রতাই ভ্রুকে সুন্দর করে তোলে। ভ্রুটা যদি সোজা হত, দেখতে সুন্দর লাগতো না। যদি তোমার স্ত্রী কোন ভুল করে ফেলে, অস্থির হয়ে রেগেমেগে হামলা করে বসোনা। উত্তেজিত অবস্থায় তাকে সোজা করতে যেওনা, তাহলে অতিরিক্ত চাপে ভেঙে যাবে। আর ভাঙা মানে বুঝোই তো, তালাক! আবার সে অনবরত ভুল করে যেতে থাকলে ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কিছু না বলে লাগামহীন ছেড়েও দিওনা। তাহলে বক্রতা যে আরো বেড়ে যাবে। নিজের ভেতরে গুটিয়ে যাবে। তোমার প্রতি আচরণ উদ্ধত হয়ে যাবে। তোমার কথায় কান দিবেনা।
  • তাহলে কী করব?

মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।

তুমি ঐ হাদিসটা পড়ো নি?

  • কোনটা?
  • ঐ যে,যার ভাবার্থ হল,নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে এমনভাবে যে,তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। তার প্রতি অতীতে কৃত সব সদ্ব্যবহার-সদাচার ভুলে যায়। তুমি যদি তার প্রতি যুগ-যুগান্তরও সুন্দর আচরণ কর, হঠাৎ একদিন কোনক্রমে একটু রূঢ় আচরণ করে ফেলেছ, ব্যাস অমনিইই সে নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলবে আমি তোমার কাছে কখনোই ভালো কিছু পাইনি।

দেখো বাছা! তার এই আচরণে রুষ্ট হয়োনা। তার এই চপল স্বভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি বিতৃষ্ণা এনো না। তার এই স্বভাবকে তুমি অপছন্দ করলেও, তার মধ্যে এমন অনেক কিছু পাবে, যা তুমি শুধু পছন্দই করোনা, বরং জানও লড়িয়ে দিতে পারো।

নারীদের শরীর মনের অবস্থা সবসময় একরকম থাকে না। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা সময় তাদের শারীরিক দুর্বলতা থাকে। অনেকসময় মানসিক অস্থিরতাও বিরাজ করে। তাদের এই দুর্বলতা, অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ্ তা’আলা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের নামাজ মআআফ করে দিয়েছেন। রোযাকে পিছিয়ে দিয়েছন তার স্বাস্থ্য ও মেজাজ ঠিক হওয়া পর্যন্ত। তুমিও তোমার স্ত্রীর দুর্বল মুহুর্তগুলোতে তার প্রতি কোমল হবে।

সবসময় মনে রেখো, তোমার স্ত্রী তোমার কাছে অনেকটা দায়বদ্ধ। বিভিন্নভাবে তোমার মুখাপেক্ষী। তোমার সুন্দর আচরণের কাঙাল। তুমি তার প্রতি যত্নবান হবে। তার প্রতি অনেকবেশি মনোযোগ দিবে। তাকে আপন করে নেবে। তাহলে সে তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হবে। তাকে অনুপম সংগী হিসেবে পাবে।

দাঁড়ি না রাখার ক্ষতিসমূহ

ওবায়দুল্লাহ


১. দাঁড়ি মুন্ডালে অথবা এক মুষ্টি থেকে ছোট করলে শি‘আরে ইসলাম তথা মুসলমানদের জাতীয় নিদর্শন এবং শরী‘আতের হুকুম তরক করা হয়। যা জায়েয নয়।

২. আল্লাহ তা‘আলার খিলকাত ও সৃষ্টি বৈশিষ্ট্যকে নষ্ট করা হয়। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৫৮৮৬, মেরকাত ৮/২৭৯)

৩. পুরুষ জাতি মহিলাদের সাদৃশ্য হয়ে যায়, যা শরী‘আতে হারাম।

৪. চোখের দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পেতে থাকে।

৫. সূরাহ-ক্বিরাআত সহীহ থাকলেও শরী‘আতে তার আযান, ইক্বামত ও ইমামতির যোগ্যতা থাকে না। কেননা যে দাঁড়ি এক মুষ্টির কম করে রাখে সে ফাসিক, আর ফাসিক ব্যক্তি ইমাম ও মুআযযিন হওয়ার যোগ্য নয়। (আদদুররুল মুখতার ১/৫৬৭)

৬. মুসলমানদের সম্মান ও সালাম পাওয়ার যোগ্য হয় না। কেননা ফাসিককে সালাম দেওয়া মাকরুহ। (ফাতাওয়ায় শামী ৬/৪১৫)

৭. চেহারার নূর চলে যায় এবং প্রকৃত সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে পারস্যের দাঁড়িবিহীন দূতকে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখে চেহারা ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিলেন যে, তোমার চেহারা এত বিশ্রী বানাতে কে বলেছে? (আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া ৪/২৯১)

তাছাড়া দাঁড়ি মুন্ডালে অল্প দিনেই তার দাঁড়ি পেকে সাদা হয়ে যায়। যার ফলে তখন তার দাঁড়ি রাখতে ইচ্ছা করলেও লজ্জার দরুন তা রাখা মুশকিল হয়।

৮. বিভিন্ন ধরনের গুনাহ থেকে বাঁচা কঠিন হয়ে যায় এবং সহজে বিভিন্ন গুনাহের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে হয়।

৯. শেভ করার মাধ্যমে সময় ও অর্থের অপচয় হয়। যা স্পষ্ট নাজায়েয। (সূরায়ে বনী ইসরাঈল ২৬,২৭)

১০. তার শরাফত বা বুযুর্গী নষ্ট হয়ে যায় এবং মানুষ তাকে ফাসিক, পাপী ও নাফরমান ইত্যাদি বলে স্মরণ করে থাকে।

১১. ঐ ব্যক্তি মুমিন, নাকি কাফের? তা বুঝা যায় না এবং তার হকও আদায় করা যায় না।

১২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তর মুবারকে আঘাত দেয়া হয়।

১৩. অন্যান্য গুনাহ একবার করলে তার বাহ্যিক আছর পরক্ষণেই অদৃশ্য হয়ে যায়। কিন্তু দাঁড়ি না রাখলে সর্বদা গুনাহগার হিসাবে চিহ্নিত হতে থাকে।

১৪. পুরুষের সৌন্দর্যের বিকৃতি ঘটে এবং তার গাম্ভীর্যতা শেষ হয়ে যায়।

১৫. দাঁড়িবিহীন লোক রাস্তা ঘাটে মারা গেলে তার গোসল, কাফন-দাফন নিয়ে দারুণ সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাকে শশ্মানে নেয়া হবে? নাকি গোরস্থানে নেয়া হবে? তা নির্ণয় করাও মুশকিল হয়ে যায়।

১৬. কবরে মুনকার-নাকীরের সুওয়াল-জওয়াব কঠিন হয়ে যাবে।

১৭. হাশরের ময়দানে উম্মতে মুহাম্মাদী বলে দাবী করা ও উম্মতে মুহাম্মাদী হিসেবে পরিচয় দিয়ে শাফা‘আতের আশা করাও মুশকিল হবে।

সাহাবাদের ধৈর্য

নিউজ ডেস্ক

আমরা তো অল্প একটু দুঃখ কষ্টের মধ্যে পড়লেই হা-হতাশ শুরু করে দেই! অথচ, সাহাবীদের অবস্থা কেমন ছিল!
.
আসুন দেখি দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষদের কিছু অবস্থা..
.
আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি ৭০ জন (আহলে সুফ্ফাকে) এই অবস্থায় দেখেছি, তাদের কারও কাছে (গা ঢাকার জন্য) চাদর ছিল না, কারও কাছে লুঙ্গী ছিল এবং কারও কাছে চাদর, (এক সঙ্গে দুটি বস্ত্রই কারও কাছে ছিল না) তারা তা গর্দানে বেঁধে নিতেন। অতঃপর সেই বস্ত্র কারও পায়ের অর্ধগোছা পর্যন্ত হত এবং কারও পায়ের গিরা পর্যন্ত। সুতরাং তাঁরা তা হাত দিয়ে জমা করে ধরে রাখতেন, যেন লজ্জাস্থান দেখা না যায়।” (সহীহ বুখারী, ৪৪২)
.
আহ্হা! দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মানুষদের অবস্থা..
.
মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন (আবু হুরাইরা) আমি অজ্ঞান হয়ে রাসূল সা: -এর মিম্বার ও আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা-এর ঘরের মাঝামাঝি জায়গায় পড়ে ছিলাম। অতঃপর একজন ব্যক্তি আসল। সে তার পা আমার কাঁধে রাখল। সে মনে করেছে আমি পাগল। অথচ আমি পাগল নই বরং আমি ক্ষুধার কারণে এভাবে ছিলাম। (সহীহ বুখারী, ৭৩২৪ ও তিরমিযী, ২৩৬৭)
.
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, “মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবার কোনো সময়ই পরপর দুই দিন পরিতৃপ্তির সাথে যবের রুটি খেতে পায়নি, এমনকি এভাবেই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।” (ইবনু মাজাহ, ৩৩৪৬)
.
উরওয়া রাহিমাহুল্লাহ, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলতেন, “আল্লাহর কসম! হে আমার বোনের ছেলে, এমনও হয়েছে যে দুই মাসে রাসূলের বাড়িতে কোনো দিন চুলা জ্বলেনি।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, “হে খালা! তাহলে আপনারা কীভাবে জীবন কাটাতেন?” আয়েশ রাদিআল্লাহু আনহা বলেন, “পানি ও খেজুর দিয়ে।” (সহীহ মুসলিম, ২৯৭২)
.
এই হলো দুনিয়ার সর্বকালের সেরা মানুষগণের অবস্থা। তাদের জীবন থেকে কিঞ্চিত পরিমাণ মাত্র নমুনা হিসাবে উপস্থাপন করেছি।
সত্যি বলতে কী, আল্লাহর নিকট যেমন দুনিয়ার বিন্দুমাত্র মূল্য নাই, তেমনি তাঁর প্রকৃত বান্দাদের নিকটেও দুনিয়ার বিন্দুমাত্র মূল্য নাই। তাদের জীবনের স্বপ্ন ও আশা কোনো সময়ই দুনিয়াভিত্তিক গড়ে উঠেনি। তাদের লক্ষ্য সব সময় পরকাল।
.
আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা কি মনে করো যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ তোমাদের উপর দিয়ে তা বর্তিত হয়নি, যা তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর বর্তিত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল দুঃখ-দুর্দশা ও সীমাহীন কষ্ট। (বিপদের ঝঞ্ঝায় ) তারা টলে উঠেছিল। এমনকি রাসূল ও তাঁর সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিলো (সাহাবিরা) তারা বলে, কখন আল্লাহর সাহায্য আসবে? জেনে রাখো! নিশ্চয় মহান আল্লাহর সাহায্য অনেক নিকটবর্তী।” (বাক্বারাহ, ২১৪)
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂

টিপ কাণ্ডের পর পরই আলোচনায় হিজাব কান্ড

ছবি: কালের কন্ঠ

মসাফির মিজান, কালিকা প্রসাদ

এক পুলিশ সদস্য একজন শিক্ষিকাকে টিপ নিয়ে লাঞ্চিত করায় সারাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলো।
অনেক পুরুষ টিপ পরে প্রতিবাদ করেছেন।
সেই প্রতিবাদকে সাধুবাদ জানাই।

এখন দেখা যাবে ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল সেকুলার সমাজ,নারীবাদীরা ২০ জন ছাত্রীকে ইউক্যালিপটাস গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে আহত করার জন্য কি আন্দোলন করেন।

সংসদে মাননীয় এমপি সুবর্ণা মুস্তফা কি বক্তব্য দেন শুনতে চাই।

এই ঘটনায় সেই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা হয় কিনা,তাকে বরখাস্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তি দেওয়া হয় কিনা তা দেখতে চাই।

হিজাব পরে সাজু খাদেম,সুপ্রীতি ধরেরা প্রতিবাদী ছবি দেন কিনা দেখতে চাই।

ছবি: বিডি২৪লাইভ.কম

এই ঘটনায় কেউ বলে কিনা বাংলাদেশ মুসলিমদের জন্য আর নিরাপদ নয়।

হিজাব পরা নারীর চয়েজ।
তার ব্যক্তি স্বাধীনতা।
তার ধর্মীয় কর্তব্যে ফরজ।
সেখানে একজন হিন্দু শিক্ষিকা হিজাব পরার জন্য ছাত্রীদের পেটানোয় সুশীলরা কি হিন্দু ধর্মকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন?

টিপ নিয়ে কোটি কোটি শব্দের পোস্ট প্রসব যারা করেছেন, তারা হিজাব নিয়ে অন্তত হাজার শব্দের পোস্ট দেন কিনা খেয়াল করবেন।

মজা দেখার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখুন।
এখন দেখবেন চারদিকে সুনশান নীরবতা।
সেকুলার প্রগতিশীল নামধারী,নারীবাদী এক্টিভিস্ট কি ধরনের double standard বদমাইশ তা টের পেয়ে যাবেন অনায়াসে।

সেই শিক্ষিকা শুধু হিজাব নয়,মাস্ক পরার জন্য কয়েকজনকে পিটিয়েছেন।
প্যান্ডেমিকে মাস্ক পরার জন্য ছাত্রীদের নাজেহাল করেছেন যিনি তাকে তো মহামারী নিয়ন্ত্রণ আইনেও শাস্তি দেওয়া উচিত।
সেই শাস্তি এই শিক্ষিকা পান কিনা দেখেন।

দেশের বিবেকবান, সুশীল নাগরিকদের বিবেকের কদর্যতা এই ঘটনায় টের পাবেন অনায়াসে।
চোখ রাখুন চারপাশে।

ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার জিন্দেগী

ওবায়দুল্লাহ, ব্লগার

হে মানুষ ! দুনিয়ার আনন্দ – ফূর্তি তো স্থায়ী কিছু নয় , বরং অল্প কয়েকদিনের ব্যাপার মাত্র । অতএব , জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ – শান্তিকে তুমি এ ক্ষণস্থায়ী আনন্দ – ফূর্তির দ্বারা নষ্ট করিয়া ফেলিও না ।

এই দুনিয়ায় থাকিয়া কোন মানুষেরই উচিত না গাফেল হইয়া থাকা । প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর কথা স্মরণে রাখাই তার কর্তব্য । কারণ , মানুষ যখনই দুনিয়াতে আসে , মৃত্যু তাহাকে ডাকিয়া বলে , আমিও তোমার পিছনে – পিছনে আসিতেছি ,

এই মাহে রমজান হোক নিজেকে পরিবর্তনের মাস ,
রবের পথে ফিরে আসার মাস,
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে
সঠিক বুঝ দান করুন
————————আমিন —–

লাইলাতুল বরাত এর ফযীলত

লাইলাতুল বরাতের ইবাদতের ফজিলত

পবিত্র লাইলাতুল বরাত এক মহিমান্বিত রাত। ১৫ শাবান অর্থাৎ শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস রয়েছে। এই বরকতময় রাত ইবাদত বন্দেগিতে কাটানো উত্তম। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত জেগে থাকবে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে।

বরকতময় ওই পাঁচটি রাত হলো-
১. জিলহজের অষ্টম রাত।
২. জিলহজের নবম রাত।
৩. ঈদুল আজহার রাত।
৪. ঈদুল ফিতরের রাত।
৫. শাবানের ১৫ তারিখের রাত।
(আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব)।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৫ শাবানের রাত ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে আমি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিছানায় পেলাম না।
তাই তাঁকে খোঁজার উদ্দেশে বের হলাম। দেখতে পেলাম, তিনি জান্নাতুল বাকিতে আছেন। আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, ‘তুমি কি এই আশঙ্কা করছ যে, আল্লাহ এবং তাঁর রসুল তোমার সঙ্গে অবিচার করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আমি ধারণা করছিলাম, আপনি অন্য কোনো বিবির ঘরে তাশরিফ নিয়েছেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শাবানের ১৫ তারিখ রাতে মহান আল্লাহতায়ালা দুনিয়ার আসমানে তাশরিফ আনেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়া-বকরির পশুগুলোর পশমের চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে তিনি মাফ করে দেন। ’ (তিরমিজি ইবনে মাজাহ, বায়হাকি, মুসনাদে আহমদ)।
রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস শাবানের ১৫ তারিখের রাতে নফল ইবাদতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হজরত আলী (রা.) বর্ণিত, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, শাবানের রাত যখন উপস্থিত হয় তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত কর এবং দিনে রোজা রাখ। কেননা আল্লাহপাক এ রাতে সূর্যাস্তের পর প্রথম আসমানে অবতরণ করে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী কি নেই? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব, কোনো জীবিকা প্রার্থী কি নেই? আমি তাকে জীবিকা দান করব। কোনো বিপদগ্রস্ত কি নেই? আমি তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দেব। এভাবে ভোররাত পর্যন্ত ঘোষণা চলতে থাকে। (ইবনে মাজাহ)। লাইলাতুল বরাতে রাত জেগে নফল ইবাদত রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। তিনি এ পবিত্র রাতে বেশি ইবাদত ও দোয়া করতেন, কবর জেয়ারত করতেন। লাইলাতুল বরাতের নামাজের জন্য বিশেষ আলাদা কোনো পদ্ধতি নেই। অন্য সব নামাজের মতোই এ রাতে নামাজ পড়া যায়। দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করা উত্তম। এই পবিত্র রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া-ইস্তিগফার ইত্যাদি নেক আমল যতটা সম্ভব হয় আদায় উত্তম।
এ বছর এমন এক সময় লাইলাতুল বরাত হাজির হয়েছে যখন করোনাভাইরাস মহামারী মানব সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। এ মসিবত থেকে রক্ষা পেতে আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে হাত তুলি। তার কাছে ক্ষমা চাই। মসিবত থেকে মুক্তি প্রার্থনা করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিপদ থেকে মুক্ত রাখুন। আমিন।

=দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা থেকে সংগৃহীত=

জিহ্বা দিয়ে কিছু ঘটে যাওয়া পাপ

জিহ্বা দিয়ে যে ১৯টি পাপ সংঘটিত হয়,,,

১) কারও নাম খারাপ করে ডাকা/নাম ব্যঙ্গ করা।

২) খারাপ ঠাট্টা বা বিদ্রূপ করা।

৩) অশ্লীল ও খারাপ কথা বলা।

৪) কাউকে গালি দেয়া।

৫) কারও নিন্দা করা।

৬) অপবাদ দেয়া।

৭) চোগলখুরী করা।

৮) বিনা প্রয়োজনে গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়া।

৯) মোনাফিকী করা ও দুই মুখে (দ্বিমুখী) কথা বলা।

১০) বেহুদা ও অতিরিক্ত কথা বলা।

১১) বাতিল ও হারাম জিনিস নিয়ে আলোচনা করে আনন্দ লাভ করা।

১২) কারও গীবত করা।

১৩) খারাপ উপনামে ডাকা।

১৪) কাউকে অভিশাপ দেয়া।

১৫)কারো অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বদনাম করা।

১৬) মিথ্যা স্বপ্ন বলা।

১৭) অনর্থক চিৎকার বা চেঁচামিচি করা।

১৮) জিহ্বা দিয়ে হারাম বস্তুর স্বাদ নেয়া, গ্রহণ করা বা খাওয়া।

১৯) জিহ্বা দিয়ে খারাপ অর্থে কাউকে কোন ভঙ্গি করা বা দেখানো।


নিম্নোক্ত হাদিসটি আমাদের সবসময় সামনে রাখা উচিত :-

★সাহাল ইবনে সায়াদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ (স:) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী অঙ্গ (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী অঙ্গ (লজ্জাস্থান) হেফাজতের নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব। (বুখারী : ৬৪৭৪)

সূত্র: ফেইজবুক

হতাশার জাল ঝেড়ে ফেলে নিজেকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করুন

ওবায়দুল্লাহ, কালিকাপ্রসাদ

ছবি: জিহাদি অনুপ্রেরণা

–১০০ বছর আগেও আমরা এই পৃথিবীর শাসক ছিলাম!
–সময়ের চাকা আবার ঘুরবে!
–আবার মুসলমানরা ঘুরে দাঁড়াবে!
হতাশ হওয়ার কিছু নেই কারণ রাত যত গভীর হয়, সোনালী সকাল ততটাই নিকটে থাকে
–মুহাম্মাদ (সা.) এর ভবিষ্যৎবানী নিশ্চয়ই সত্যি হবে!
–খিলাফাত আবার ফিরে আসবে!
–ইসলাম পুরো পৃথিবীতে আবার প্রতিষ্ঠা লাভ করবে!
-পৃথিবীর কাঁচা-পাকা প্রতিটি ঘরে ইসলাম প্রবেশ করবে![ইং সা আল্লাহ ]
সুতরাং আল্লাহ তা’আলার জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে ইলমীভাবে আমলিভাবে গড়ে তুলুন এবং জীহাদের জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুত গ্রহণ করুন,
তবে নিশ্চিত জেনে রাখুন আপনাকেসহ অথবা আপনাকে ছাড়া অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ইসলামকে বিজয়ী করবেন, সুতরাং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করুন।

–আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ-
‘তারা মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়!কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার আলোকে পুনরায় বিকশিত করবেন!যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে!’
[সূরা আত তাওবাহঃ-৩২]

–সহিহ মুসলিমে বর্নিত হয়েছেঃ-
রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন,
‘আল্লাহ তায়ালা পুরো পৃথিবীকে সংকুচিত করে আমার সামনে রেখে দিলেন। আমি এর পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত দেখেছি এই পুরো অংশেই উম্মার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে!’

ইনশাআল্লাহ রাসূলের প্রতিটি ভবিষ্যৎবাণী বাস্তবায়ন হবে। ইসলামের ছায়াতলে মানুষ শান্তি ও নিরাপদে জীবন যাপন করবে।