ওবায়দুল্লাহ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ এএম, ১৬ই নভেম্বর ২০২২

ইদানীং রাত হলে ঘরের পাখাগুলো বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। আবহাওয়া জানান দিয়ে চলেছে, শীত আসছে। গ্রামাঞ্চলে অবশ্য ইতোমধ্যে লেগে গেছে শীতের ছোয়া। ভোর হলেই দেখা যায়, কুয়াশায় ঢেকে গেছে অনেক পথঘাট।
হাদীসে এসেছে, নবি (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “শীতকাল হলো মুমিনের বসন্ত।” (মুসনাদু আহমাদ, ১১৭১৬)
বাইহাকিতে আরেকটু অতিরিক্ত রয়েছে, “শীতের রাত লম্বা হয়। তাই (মুমিন) তাতে ইবাদাত করে। আর শীতের দিন ছোটো হয়। তাই তাতে সে সিয়াম পালন করে।” [বাইহাকি, ৪/৪৮৯]
প্রকৃতপক্ষে শীতকাল মুমিনের বসন্ত। কারণ এই ঋতুতে মুমিন আনুগত্যের বাগানে তৃপ্তিসহ হেঁটে বেড়ায়, ইবাদাতের প্রান্তরে বিচরণ করে এবং সহজ আমলের বাগিচায় তার অন্তরকে আনন্দ দেয়। যেভাবে গবাদি পশু বসন্তের চারণভূমিতে তৃপ্তিসহ বিচরণ করে এবং তার দেহ সুস্থ থাকে, তেমনিভাবে শীতকালে মুমিনের দ্বীন সুস্থ ও সঠিক থাকে, কারণ আল্লাহ তাআলা তার জন্য আমল সহজ করে দেন।
একজন মুমিন কষ্ট ছাড়াই দিনের বেলায় সিয়াম পালন করতে পারে। কোনো ক্ষুধা লাগে না, তৃষ্ণাও পায় না। কারণ শীতের দিন ছোটো ও শীতল। তাই দিনের বেলায় সিয়ামের কষ্টই অনুভব হয় না।
আবূ হুরায়রা (রদি.) বলতেন, ‘তোমাদেরকে ঠাণ্ডা গনীমতের কথা বলে দেবো কি?’ লোকেরা বলল, ‘অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘শীতকালের সিয়াম।’
একে ঠাণ্ডা গনীমত বলার অর্থ হলো, এটি এমন এক গনীমত (সম্পদ), যা লাভ করতে কোনো যুদ্ধ করতে হয়নি, কোনো কষ্ট করতে হয়নি এবং কোনো পরিশ্রমও করতে হয়নি। সুতরাং এই গনীমতের অধিকারী কোনো কষ্ট ছাড়াই সেটা লাভ করে।
শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় ইবাদাতকারী প্রয়োজন মতো ঘুমাতে পারে। এরপর সালাত আদায় করতে পারে। এরপর কুরআনের সকল ওযীফা আদায় করতে পারে।
অতএব শীতের রাতে একই সাথে প্রয়োজনীয় ঘুমও সম্পন্ন হয় এবং কুরআনের বিভিন্ন ওযীফাও আদায় করা যায়। তাই একই সাথে দ্বীনের স্বার্থ এবং দেহের শাস্তি দুটোই পুরোপুরি আদায় হয়ে যায়।
ইয়াহইয়া ইবনু মুআয (রহ.) বলেন, ‘রাত অনেক লম্বা। অতএব ঘুমিয়ে রাতকে ছোটো করে ফেলো না। ইসলাম স্বচ্ছ পরিষ্কার। পাপরাশি দিয়ে একে নোংরা করো না।’
অপরদিকে গ্রীষ্মের রাত কিন্তু এমন নয়। কারণ গ্রীষ্মকালে রাত ছোটো হয় এবং অনেক গরম পড়ে। ফলে বেশি ঘুম ধরে। তাই সারারাত ঘুমানো লাগে। গ্রীষ্মের রাতে ইবাদাত করতে হলে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হয়। রাত ছোটো হওয়ার কারণে কখনো তো কুরআনের ওযীফাই শেষ করা যায় না।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রদ.) বলেন, ‘অভিনন্দন শীতকাল! শীতে বরকত অবতীর্ণ হয়। রাত লম্বা হয়, তাই ইবাদাত করা যায়। দিন ছোটো হয়, তাই সিয়াম পালন করা যায়।’
হাসান (রহ.) বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য চমৎকার ঋতু হলো শীতকাল। লম্বা রাত, তাতে ইবাদাত করা যায়। ছোটো দিন, তাতে সিয়াম পালন করা যায়।’
ইমাম ইবনু রজব রাহিমাহুল্লাহ

